Text Interviews

এপিআই পার্কের উদ্দেশ্য হচ্ছে ওষুধের কাঁচামালে পরনির্ভরশীলতা কমানো

14 June 2023 | by Muhammad Shafiullah

তিন দশকের বেশি সময় আগে বিদেশে বিপণন নেটওয়ার্ক তৈরি করে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। তারও কয়েক দশক আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও অবস্থান করে নেয় অপসোনিনের প্রস্তুতকৃত ওষুধ। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ ছাড়াও উন্নত দেশেও রফতানি হচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ওষুধ। ক্রমবর্ধমান রফতানির বাজারে অবস্থান তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ওষুধ রফতানির এসব বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের সেলস ও মার্কেটিংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন তালুকদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ।

বছর বছর রফতানির আকার বড় হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর রফতানি হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার ওষুধ। বাংলাদেশের ওষুধের ওপর বৈশ্বিক আস্থা তৈরি হয়েছে কি?
অবশ্যই হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের বেশির ভাগ ওষুধ রফতানি হয় উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশে, যা দিনে দিনে আরো বাড়ছে। কারণ বাংলাদেশে তৈরীকৃত ওষুধগুলো মেধাস্বত্বমুক্ত হওয়ায় তা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের, কিন্তু গুণগতভাবে বিশ্বমানের। আমরা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে সক্ষম এতে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া আমরা টেকনোলজিক্যালি অ্যাডভান্সড এমন কিছু জেনেরিক তৈরি করতে সক্ষম, যা পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশের বাজারে রফতানিযোগ্য।
১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা পায় অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী দেশের ওষুধ শিল্পে অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান অপসোনিন। বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন বিশ্ববাজারেও রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৩০টি দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে অপসোনিনের ওষুধ। কোম্পানিটি বর্তমানে ৩০০-এর অধিক ব্র্যান্ডের আট শতাধিক ওষুধ বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৬ সালে যাত্রা করে এবং ১৯৬২ সালে প্রথম উৎপাদনে যায়। এরপর ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে ওষুধ বাজারজাত শুরু করে। এর মাত্র পাঁচ বছর পর ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে ওষুধ রফতানির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে। ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম থার্ড জেনারেশন সেফালোস্পরিন উৎপাদন করে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেশে প্রথম সাপোজিটরি উৎপাদন করে। ২০২১ সালে সর্বপ্রথম টপিকাল স্প্রে উৎপাদন করে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০ ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে অপসোনিন অন্যতম।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের দাম আর স্থানীয় বাজারে ওষুধের দামের তারতম্য নিয়ে বলুন। দুই বাজারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের একই ওষুধের মানের ভিন্নতা কেমন?
আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় বাজারের সঙ্গে ওষুধের দামের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গুণগত মানের কোনো পার্থক্য নেই। যেসব কারণে দামের তারতম্য হতেও পারে তা হলো ভৌগোলিক ও ডেমোগ্রাফিক, ওই দেশের জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয় এবং জিডিপি, পণ্য বাজারজাতের বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন (যেমন বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইত্যাদি), ডিস্ট্রিবিউশন খরচ ইত্যাদি।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের অবস্থান উন্নত বিশ্বের ওষুধ শিল্পের অবস্থানের চেয়ে কোন অংশে পিছিয়ে?
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প যেসব কারণে উন্নত বিশ্বের চেয়ে পিছিয়ে আছে তা হলো কাঁচামালের জন্য আমদানিনির্ভরতা, গবেষণা এবং সমসাময়িক উন্নয়ন সাধন বিমুখতা, ওষুধ রফতানিতে বায়োইকুইভ্যালেন্স রিপোর্টের শর্ত পূরণ করতে না পারা এবং বায়োইকুইভ্যালেন্স টেস্ট সেন্টারের স্বল্পতা, ওষুধ রফতানির স্বার্থে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করানো, বিভিন্ন প্রকার কাঁচামালের অধিক দাম, বিভিন্ন দেশে উচ্চমাত্রার রেজিস্ট্রেশন ফি।

১৫২টি দেশে ওষুধ রফতানি করছে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পরিপূর্ণভাবে অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি কেন?
বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশে ওষুধ রফতানি হয় সে দেশগুলো বেশির ভাগ উন্নয়নশীল কিংবা স্বল্পোন্নত। যদি বাংলাদেশের ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোর টিজিএ অস্ট্রেলিয়া, এমএইচআরএ ইউকে, ইউএসএফডিএ এবং ডব্লিউএইচওর সনদপ্রাপ্ত হয় তাহলে এ সুযোগ আরো বেড়ে যায়। জেনেরিক বাজারের মধ্যে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমরা বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য এএনডিএ, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারের জন্য এমএ খুবই ব্যয়সাপেক্ষ (যদিও এটি দেশভেদে তাদের আরোপিত শুল্কহারের ওপর পরিবর্তনশীল)। ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট কনভার্টিবিলিটির সীমাবদ্ধতা, রফতানীকৃত দেশে নিজস্ব ব্যয় পরিশোধের জন্য অর্থ প্রেরণে সীমাবদ্ধতা।

দেশের ওষুধে বৈশ্বিক অ্যাক্রেডিটেশন যেমন এফডিএ, এমএইচআরএর মতো সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ওষুধ শিল্পের সীমাবদ্ধতা কী?
দেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য একই সঙ্গে আমাদের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের যৌথভাবে সীমাবদ্ধতা উত্তরণে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই জানি প্রতিটি দেশের একটি ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকে, যা আমাদের ডিজিডিএর মতো ওষুধের নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রতিটি দেশের এ সংস্থাকে জিএমপির দেয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এখন পর্যন্ত অনেক দেশে আমাদের ডিজিডিএ প্রদেয় জিএমপি সনদ গ্রহণ করলেও পাশাপাশি আরো ডকুমেন্ট চায়। এছাড়া আমাদের ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কর্মযজ্ঞে ম্যান-ম্যাটারিয়াল-মেথডকে সর্বোচ্চ মানের এবং গুণের করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের অবশ্যই বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইত্যাদির প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।

ওষুধের কাঁচামাল আমদানির কোন উল্লেখযোগ্য সমস্যা রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে?
বাংলাদেশী ওষুধ কোম্পানিগুলো শুধু জেনেরিক বাজারে সচল। কারণ আমাদের নিজস্ব কোনো রিসার্চ প্রডাক্ট নেই। আমাদের কাঁচামালের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। আমাদের নিজস্ব কাঁচামাল তৈরির অঞ্চলটি এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে আলোর মুখ না দেখার কারণে আমরা এ সমস্যা থেকে বের হতে পারছি না। অন্যদিকে আমদানীকৃত কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে আমরা আমাদের কম্পিটিটরদের (ভারত/পাকিস্তান) সঙ্গে রফতানিতে প্রাইস কম্পিটিশন করতে পারছি না। আমরা যখন কভিড-১৯ থেকে বের হয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যস্ত ঠিক তখনই হানা দিল রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যার প্রভাবে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হয় এবং শিপমেন্ট খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কাঁচামালের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। তার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় কোম্পানিগুলো এলসি জটিলতার কারণে ওষুধের কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না। ফলে যথাসময়ে রফতানি ব্যাহত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে কাঁচামাল আমদানিতে পরনির্ভরশীলতা, শিপমেন্ট খরচ বেড়ে যাওয়া এবং এলসি জটিলতা আমাদের রফতানিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মেধাস্বত্বের সুবিধা বাতিল হওয়ার পর বিশ্ববাজারে দেশের ওষুধ অবস্থান ধরে রাখতে ও বাজার প্রসারে এখনই কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) কাউন্সিল স্বল্পোন্নত দেশের জন্য ওষুধের ওপর পণ্যস্বত্ব ছাড় বাড়িয়ে সেটি ২০৩৩ সাল পর্যন্ত করেছে। এটি আমাদের জন্য খুবই খুশির খবর। কারণ আমরা সহজেই রফতানি শেয়ার বাড়াতে পারব। এখন যা করতে হবে তা হলো যত দ্রুত সম্ভব এপিআই পার্কটি কার্যকরভাবে চালু করতে হবে। এতে আমাদের কাঁচামালের মূল্য নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পরনির্ভরশীলতা কমবে। দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের অবশ্যই শিগগিরই গবেষণায় মনোনিবেশ করা উচিত। ওষুধ রফতানিকে আরো উৎসাহিত ও গতিশীল করার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো সম্পূর্ণ পৃথক একটি সংস্থার (ফার্মেক্সিল) প্রয়োজন, যা আমাদের ওষুধ শিল্পকে আরো বেশি রফতানিমুখী করবে ।

রফতানি কার্যক্রমে এপিআই পার্কের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
রফতানি কার্যক্রমে এপিআই পার্কের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ওষুধের কাঁচামালের ওপর পরনির্ভরশীলতা কমানো। এ পরনির্ভরশীলতা কমাতে সাধারণ ওষুধের (যেমন প্যারাসিটামল প্রভৃতি) কাঁচামাল তৈরির পাশাপাশি এর ইন্টারমিডিয়েট এবং টেকনোলজিক্যালি অ্যাডভান্সড মলিকিউলের কাঁচামাল তৈরিতে গুরুত্বারোপ করতে হবে। এছাড়া এপিআই পার্ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয় উৎপাদনকারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ সমঝোতায় নতুন নতুন মলিকিউল আবিষ্কারে মনোনিবেশ করতে পারে, যা আমাদের আন্তর্জাতিক পেটেন্ট প্রডাক্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি সহায়তায় আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর মাধ্যমেই এপিআই পার্ক রফতানিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

রফতানিতে কর সুবিধা ও প্রণোদনার বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কারণ তারা ২০১৮ সাল থেকে এফওবি প্রাইসের ওপর প্রায় ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়েছে। এতে আমরা যারা রফতানিতে সরাসরি কাজ করি তারা আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারব। এক্ষেত্রে আমি বলব সরকার যেন এ প্রণোদনা বহাল রেখে রফতানিবান্ধব যুগোপযোগী পলিসি গ্রহণ করে।

ওষুধ শিল্পে আমাদের গবেষণা নেই বললেই চলে। এ অবস্থা থাকলে আগামীতে রফতানি সংকুচিত হবে কি?
বাংলাদেশ এ মুহূর্তে পেটেন্টেড ওষুধ উৎপাদন করছে, যা কিনা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলবে। এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ, যা আমরা ওষুধ রফতানিতে কাজে লাগাতে পারছি। আমরা অতি শিগগিরই ক্ষতির মুখে পড়ে যাব যদি আমরা গবেষণার দিকে মনোনিবেশ না করি। ২০৩৩ সালের পর আমরা আর কোনো নতুন পেটেন্টেড ওষুধ বাজারে দিতে পারব না। যা আমাদের রফতানি বাজারকে সংকুচিত এমনকি হুমকিতে ফেলে দিতে পারে। ট্রিপস (ট্রেড রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস) চুক্তির কারণে বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পণ্যস্বত্বমুক্ত থাকবে এটি সত্য। কিন্তু আমরা ২০২৬ সালেই দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করতে যাচ্ছি। ফলে আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হব। কারণ তখন আমরা ট্রিপস চুক্তির কোনো সুবিধা ভোগ করতে পারব না। একই সঙ্গে আমাদের জন্য নতুন শর্তারোপ হবে। যেগুলো সদ্য প্যাটেন্টেড মলিকিউল সেগুলোর উৎপাদন সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যাবে। যদি দেশীয় কোম্পানি এগুলোর উৎপাদন চালিয়ে যেতে চায় তাহলে তাকে অধিক মূল্যের স্বত্বমূল্য পরিশোধ করতে হবে। ওষুধের দাম দেশের বাজারে অনেক গুণ বেড়ে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো গবেষণায় মনোনিবেশ করছে না বললেই চলে। ফলে দেশীয় ওষুধ শিল্পে আধুনিকতার কিংবা নতুন আবিষ্কারের ছোঁয়া নেই।

আমাদের দেশীয় বাজারের আরেকটি কঠিন সমস্যা হচ্ছে নকল ও নিম্নমানের ওষুধ। যদিও রফতানি বাজারে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ সমস্যাকে মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা অধিক গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করা সত্ত্বেও আশানুরূপ লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
পরিশেষে বলব, আমরা যদি ওষুধের কাঁচামাল আমাদের দেশে প্রস্তুত করার পাশাপাশি নতুন রিসার্চ মলিকিউল তৈরি করতে সক্ষম হই, তাহলে দেশীয় এবং রফতানি উভয় খাতে আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমবে এবং একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ আমাদের আওতায় থাকবে ও রফতানি আরো বেগবান হবে।