অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. জামাল বর্তমানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (চিকিৎসা শিক্ষা) দায়িত্ব পালন করছেন। কাজ করছেন দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় সরকারের নীতিনিধারণী পর্যায়ে। অধ্যাপনা ও গবেষণার অভিজ্ঞতাও তার বহুদিনের। দেশের চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ।
দেশে চল্লিশের দশকে চিকিৎসা শিক্ষার যাত্রা শুরু। প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাস। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা কতটুকু এগিয়েছে?
দেশে প্রথম মেডিকেল কলেজ স্থাপন হয় ১৯৪৬ সালে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠা পায় ছয়টি মেডিকেল কলেজ। ১৯৭২ সালে দেশে প্রথম এফসিপিএস ডিগ্রি চালু করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের পর সরকারি উদ্যোগে এখানে বেশকিছু মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ নামে প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে দেশে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। প্রতিনিয়তই উৎকর্ষের দিকে যাচ্ছে এ শিক্ষা ব্যবস্থা। শুধু আন্ডারগ্র্যাজুয়েট নয়, পোস্টগ্র্যাজুয়েটসহ চিকিৎসা শিক্ষার নানা ডিগ্রি এখন দেয়া হয়। দেশে বর্তমানে ১১২টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে প্রতি বছর ১০-১১ হাজার চিকিৎসক তৈরি হচ্ছেন। চিকিৎসকের ঘাটতি এখন অনেকটাই পূরণ হয়েছে। এসব মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশেই চিকিৎসা দিচ্ছেন।
আমরা বিশ্বমানের চিকিৎসক তৈরি করতে পারছি কি?
চিকিৎসা শিক্ষার পুরোটাই আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা। এখানে যে শিক্ষা কারিকুলাম, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, বইপত্রসহ সবকিছুই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহার্য পদ্ধতি আমরা ব্যবহার করি। শিক্ষার মাধ্যমও ইংরেজি। কাজেই ছাড় দেয়া বা শর্টকাট কোনো পদ্ধতি অথবা আমাদের নিজস্ব পদ্ধতি বলে কিছু নেই। আমরা প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত নতুন নতুন রোগ ও শিক্ষা পদ্ধতি এখানে প্রয়োগের চেষ্টা করি। কিছুদিন আগে করোনা মহামারী গেল, সেখানে বিশ্বের ৫০তম সফল দেশ বাংলাদেশ, যারা কভিডকে সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে। করোনার কোনো অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ছিল না, কিন্তু এ মহামারী আমাদের ডাক্তাররা মোকাবেলা করেছেন। যেখানে উন্নত বিশ্বই এ মহামারী মোকাবেলা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে; সেখানে আমাদের চিকিৎসক, চিকিৎসা পদ্ধতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা, চিকিৎসালয় নিয়ে আমরা ম্যানেজ করেছি। এগুলো আমাদের সফলতার একেকটি প্রমাণ। সারা বিশ্বে আমাদের টিকা প্রদানও সফল হিসেবে প্রমাণিত। এগুলো আমাদের চিকিৎসকরাই করেছেন। কাজেই মানের কথা বলতে গেলে, সমসাময়িক উন্নত বিশ্বে চিকিৎসার মানের সঙ্গে আমাদের মান অবশ্যই তুলনীয়। এজন্য আমাদের কখনো বিদেশী চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে হয়নি। আমাদের অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার জন্য যান, কিন্তু দেশের ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ মানুষ দেশের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের গড় আয়ু বেড়েছে। স্বাধীনতার আগে আমাদের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৬-৪৭ বছর। এখন তা ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। এসব কিছু আমাদের নির্দেশ করে, আমাদের চিকিৎসকরা মানসম্পন্ন না হলে এ অর্জনগুলো কখনো অর্জন সম্ভব হতো না।
চিকিৎসা শিক্ষায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অধিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমন্বয় দেখা যায়। তিন ধরনের কর্তৃপক্ষের এ সমন্বয় কি অন্যান্য দেশেও আছে?
এটা সারা বিশ্বের স্বীকৃত পদ্ধতি। বিএমডিসি চিকিৎসকদের চিকিৎসার মান দেখভাল ও সনদ প্রদানের কাজ করে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় বিএমডিসি। বিশ্বের সব দেশের নিজস্ব একটি কাউন্সিল থাকে, কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন ও অনুমতি ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিতে পারেন না। সবগুলো ডিগ্রিই কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিতে হয়। আমাদের মেডিকেল কলেজগুলো কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এটাই সারা বিশ্বের নিয়ম। মেডিকেল কলেজগুলো যদিও স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তার পরও তার ডিগ্রি প্রদানের সর্বময় ক্ষমতা ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সে ডিগ্রিগুলো দেয়। আর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তিসহ চিকিৎসক তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে। আমাদের শুধু মেডিকেল কলেজ নয়, নার্সিং কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, হেলথ টেকনোলজিও দেখভাল করতে হয়। এসবের প্রতিটি দেখার দায়িত্ব স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের। শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য যা যা করণীয় তার সবই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে করা হয়। কাজেই এখানে সমন্বয়ে খুব বেশি সমস্যা হয় না। এখানে প্রত্যেকের কাজ সুনির্দিষ্ট, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কাজ।
আশির দশকে দেশে প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন তার সংখ্যা সত্তরের কাছাকাছি। বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার প্রসার যেভাবে ঘটছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারছি কিনা? এখানে কোনো সীমাবদ্ধতা আছে বলে আপনি মনে করেন?
মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে। আমাদেরও সরকারি ব্যবস্থাপনাই মূল শিক্ষা ব্যবস্থা। এখানে যেহেতু সব ক্ষেত্রেই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবদান রাখছে, তার অংশ হিসেবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ভূমিকা রেখে আসছে। তাদের ভূমিকা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। একসঙ্গে এত চিকিৎসক তৈরি করার সক্ষমতা সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর নেই। অধিকতর মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজগুলোর প্রয়োজন আছে। আর এর একটি অংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো। কিছু সমালোচনা, ঘাটতি, আপত্তি আছে, তবে অবদানটাকে ইতিবাচকভাবে দেখি।
যেগুলোর ঘাটতি আছে সেগুলোর বিষয়ে আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী?
সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ আমরা পরিদর্শন করি। ঘাটতিগুলো পর্যবেক্ষণ করি। যেগুলোর ন্যূনতম মান নেই সেগুলোর ক্ষেত্রে আমরা ব্যবস্থা নিই। যদি দেখি, ক্রমাগতভাবে নীতিমালা লঙ্ঘন করছে সেক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষণা করি। মানসম্পন্ন না হওয়ায় গত বছর দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছি। এগুলো ঢাকারই কলেজ। এবার আমরা পাঁচটি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি।
চিকিৎসা শিক্ষায় বিদেশী শিক্ষার্থীরা প্রচুর আসছেন। দেশের সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় এতসংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী ডিগ্রির জন্য আসেন না, যেখানে চিকিৎসা শিক্ষায় আসছেন। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
এটা সবদিক থেকে আমাদের জন্য সুখবর। চিকিৎসা শিক্ষায় আস্থা অর্জন করতে পারছি বলেই বিদেশী শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন। আস্থা না থাকলে তারা টাকা পয়সা খরচ করে এ দেশে এসে পড়াশোনা করত না। তাদের তো আমরা প্রলুব্ধ করি না, তারা নিজেরা খোঁজখবর নিয়ে এখানে আসেন। পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করতে গিয়ে নিজেদের অবস্থানটা যাচাই করে নিতে পারছে। দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ধরনের সাংস্কৃতিক বন্ধনও তৈরি হচ্ছে।
বিদেশী শিক্ষার্থীরা সরকারিতে বেশি আসছেন নাকি বেসরকারিতে?
সরকারি-বেসরকারি দুই জায়গায়ই বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারিতে যারা আসছেন তারা একটা চুক্তির মাধ্যমে আসেন। এ চুক্তি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে হয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা বাইরে যান, বাইরের শিক্ষার্থীরা আমাদের এখানে আসেন। এক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি কাজ করে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য কোটা আছে। নন-সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য তা কম। ইউরোপ-আমেরিকার শিক্ষার্থীরাও আমাদের এখানে আসছেন। তবে সেটা সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আসতে হয়। আমাদের এখানে যারা পড়তে আসেন তাদের কাগজপত্র আমরা দেখি। এখানে পড়ার ন্যূনতম যোগ্যতা আছে কিনা তা যাচাই করি। এটাকে আমরা এলিজিবল সার্টিফিকেট বলি। লিস্ট অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে যদি সম্ভব হয় তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে লিস্ট অনুযায়ী বেরসকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে। এখানেও আমাদের মনিটরিংয়ের সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
যেসব দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে আসছেন সেসব দেশে চিকিৎসা শিক্ষার পড়াশোনায় ব্যয় বেশি, বাংলাদেশে কম। এটাও কি কারণ হিসেবে দেখা যায়?
আমাদের দেশের বড় একটি অংশ চীন, বুলগেরিয়াসহ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোতে পড়তে যান। সেখানেও তুলনামূলকভাবে ব্যয় কম। মেডিকেলের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে যাওয়ার আগে সেখানকার ব্যয়টা বিবেচনায় নেবেন এটাই স্বাভাবিক। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল পড়তে চীনে যান, আমেরিকায় যান না। আমেরিকায় ব্যয় বেশি। তার মানে আমি তো বলব না চীনের মান কম। চীন তো অনেক এগিয়ে গেছে। একইভাবে আমাদের এখানে যারা পড়তে আসেন তারাও ব্যয়টাকে বিবেচনায় রাখেন। নেপাল-ভুটান বা ভারতের একজন শিক্ষার্থী দেশে পড়ার সক্ষমতা না থাকলে সেক্ষেত্রে তারা বহির্বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে পড়তে যাবেন। তারা রাশিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো না কোনো দেশে যাবেন। আবার তারা যে শুধু স্বল্প ব্যয়ের জন্য আসেন তা নয়, মানসম্পন্ন না হলে পড়ে লাভ নেই। কারণ দিন শেষে তাদের সে দেশে গিয়ে প্র্যাক্টিস করতে হবে, তারা তো আর আমাদের এখানে ডাক্তারি করেন না। তারা শুধু অল্প টাকার জন্যই এখানে পড়তে আসেন তা বলব না। আমি বলব সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা পান বলে আসেন। নিজ দেশে তাদেরও লাইসেন্সিং ডাক্তারি পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয়।
বাংলাদেশে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আসার কারণে দেশের রিজার্ভে কি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে?
আমরা যখন বলি আমাদের দেশ থেকে মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা বাইরে যাচ্ছে, ডলার চলে যাচ্ছে—তখন আমরা ব্যথিত হই। এর উল্টোটা তো আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দদায়ক ঘটনা। বাইরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা রেমিট্যান্স পাচ্ছি। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় এটি হওয়াই তো স্বাভাবিক। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে মেডিকেল সেক্টরটাকে ব্যবহার করতে পারছি।
দেশের মেডিকেল চিকিৎসা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকের সংকট আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পরিনি। এর জন্য আমাদের কত সময় লাগতে পারে?
মেডিকেল বিজ্ঞানটা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। নতুন নতুন রোগ আসছে, নতুন নতুন চিকিৎসা আসছে, নতুন ওষুধ ব্যবস্থা আসছে। আগে তো আমার এখানে কিডনি প্রতিস্থাপন, হৃদরোগের অস্ত্রোপচার হতো না, এখন হচ্ছে। ফলে এর জন্য আমাদের আবার আলাদা ডাক্তারের প্রয়োজন পড়বে। প্রয়োজনের স্বার্থেই আমাদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়, সেটা চালাতে নতুন ডাক্তারের প্রয়োজন পড়ে। ডাক্তারের সংখ্যা এভাবে বাড়তেই থাকবে, প্রয়োজন অনুযায়ী আবার আমরা তৈরিও করব। ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা হবে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষায় নীতিগত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে কি?
আমরা ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করছি আমাদের শিক্ষকদের মান উন্নয়নের জন্য। এখানে নতুন নতুন প্রযুক্তি স্থাপন করা হচ্ছে। আরো কোনো নতুন প্রযুক্তি এলে এবং তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই করব। কয়েকটি মেডিকেল কলেজে এরই মধ্যে সিমুলেশন ল্যাবও স্থাপন করেছি। এ বিষয়টি নতুন সংযোজন।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে আপনাদের অবস্থান কী?
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। এ আইনে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। আমরা প্রতিনিয়ত তাদের পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তাদের সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি। এ কাজ অব্যাহত থাকছে। মান উন্নয়ন বহুদিনের বিষয়। এর কোনো সীমা নেই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।