Text Interviews

হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হবে: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন

29 September 2026 | by Muhammad Shafiullah

বাংলাদেশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা, শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড স্ট্রোক সেন্টারের প্রধান। বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগের প্রকোপ, প্রধান ঝুঁকি, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বর্তমান সক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ।

বাংলাদেশে হৃদরোগের বর্তমান পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতা নিয়ে সামগ্রিক চিত্র কী?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিই মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এসব রোগের প্রকোপ কমেছে, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এর সঙ্গে অসংক্রামক রোগের বোঝা বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ এখন বড় ঝুঁকি। একসময় হৃদরোগকে বয়স্কদের রোগ মনে করা হতো, এখন কম বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ দেখা যাচ্ছে। হার্ট অ্যাটাকের শুরুতে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তবে দ্রুত চিকিৎসায় অনেক রোগী সুস্থ হন। তাই প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশে কম বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতার বিষয়টি উদ্বেগের। এর প্রধান কারণগুলো কী এবং কোন বয়স থেকে মানুষকে হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: হার্টে রক্ত সরবরাহ হয় করোনারি ধমনির মাধ্যমে। এসব ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমার প্রক্রিয়া খুব অল্প বয়সেই শুরু হতে পারে। তিন-চার বছর বয়স থেকেই এর সূচনা হতে পারে, যদিও তখন উপসর্গ থাকে না। দক্ষিণ এশিয়ায় কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। এর বড় কারণ জীবনাচার। স্কুলে শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা কমেছে, শহরে মাঠও কম। স্কুল-কলেজের ক্যান্টিনে ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য। মোবাইল, ল্যাপটপ ও মোবাইল গেমে দীর্ঘ সময় বসে থাকায় শারীরিক কার্যক্রম কমছে। ফলে ওজন ও কোলেস্টেরল বাড়ছে। ধূমপানও ঝুঁকি বাড়ায়। বংশগত কারণেও হৃদরোগ হতে পারে, বিশেষ করে পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে। তবে খাদ্যাভ্যাস, নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান ও স্থূলতার মতো পরিবর্তনযোগ্য কারণগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার নির্দিষ্ট বয়স নেই; শিশুকাল থেকেই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও ধূমপান—এসব ঝুঁকির মধ্যে বর্তমানে কোনগুলো মূল প্রভাবক হয়ে উঠেছে?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: সবগুলোই পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি ও লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত চর্বি, বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাট ক্ষতিকর। খাবারে একই তেল বারবার ব্যবহারও ভালো নয়। শারীরিক কার্যক্রম কমলে স্থূলতা বাড়ে; এতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বয়স ও বংশগতির মতো কিছু কারণ পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু ধূমপান, তামাক ও মাদক বন্ধ করা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা যায়। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

তরুণদের মধ্যে ধূমপান, ভেপিং, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। ভবিষ্যতে হৃদরোগের বোঝা কমাতে কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শরীরের যত্নের ব্যবহারিক শিক্ষা দিতে হবে। তা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। শারীরিক কার্যক্রম ও মাঠের সুযোগ বাড়াতে, মোবাইল-ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কমাতে হবে। ধূমপান, ভেপিং ও মাদক বন্ধে পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে কাজ করতে হবে। জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত তেল, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে হবে। মানসিক চাপ এবং ঘুমেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঘুম শুধু আরামের বিষয় নয়; রাতে শরীর ও কোষ পুনরুদ্ধার হয়। ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই জীবনযাপনের কাঠামোতেই পরিবর্তন দরকার।

হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি করেন কেন এবং এই ‘গোল্ডেন আওয়ার’ রক্ষায় কী করা দরকার?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: আমাদের দেশে বুকব্যথা হলে অনেকেই প্রথমে সেটিকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করেন। অনেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করেন। সব বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক নয়, কিন্তু নতুন বা অস্বাভাবিক বুকব্যথাকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক বা ইসিজির সুবিধা না থাকায়ও দেরি হয়। এসটি-এলিভেশন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (গুরুতর বা মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক) হলে দ্রুত রক্তনালি খুলে দেওয়া জরুরি। রোগী দুই ঘণ্টার মধ্যে এনজিওগ্রাম ও অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির সুবিধাযুক্ত হাসপাতালে পৌঁছালে হার্টের ক্ষতি কমানো সম্ভব। এনজিওগ্রামে ব্লক শনাক্ত করে স্টেন্ট (রিং) দিয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়। তবে এরপরও চিকিৎসার সুযোগ থাকে; উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেও চিকিৎসা উপকারী হতে পারে। যদি তাৎক্ষণিকভাবে পিসিআই (রিং পরানো) করার সুযোগ না থাকে, তবে উপযুক্ত রোগীকে দ্রুত থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি দিয়ে কালবিলম্ব না করে বড় কার্ডিয়াক সেন্টারে স্থানান্তর করতে হবে। মনে রাখবেন, বুকব্যথাকে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা না করে দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়াই জীবন বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ।

ঢাকার বাইরে হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা কতটা সহজলভ্য? জেলা পর্যায়ে কোন ঘাটতিগুলো সবচেয়ে বেশি?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও সব জায়গায় হার্ট অ্যাটাকের জরুরি চিকিৎসা নেই। অ্যাসপিরিন, ক্লপিডোগ্রেলসহ ওষুধ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসিজির ব্যবস্থা থাকা দরকার। পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন-পিসিআই বা রিং পরানো সম্ভব না হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত রেফার করতে হবে। টাকার জন্য দেরি হলে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়। সরকারি ব্যবস্থায় এসব সেবা সহজলভ্য করতে হবে। জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদকম্পন ফিরিয়ে আনার পদ্ধতি) ও অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর-এইডি (স্বয়ংক্রিয় বাহ্যিক হৃদস্পন্দন উদ্দীপক যন্ত্র)-এর ব্যবস্থা প্রয়োজন। এইডি বিপজ্জনক হৃদস্পন্দন শনাক্ত করে প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সিপিআর ও লাইফ সাপোর্টে প্রশিক্ষিত করতে হবে। কয়েক মিনিট জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগের চিকিৎসা অনেক পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের জন্য হৃদরোগের চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে রাষ্ট্রের কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: হৃদরোগের রোগীদের অ্যান্টিপ্লেটলেট (একধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ যা রক্তে প্লেটলেট বা অণুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এই ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ), কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ প্রয়োজন হয়। একই ধরনের ওষুধের দাম কোম্পানিভেদে দুই-তিন গুণ পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। তাই উৎপাদন খরচ, যুক্তিসংগত মুনাফা ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ওষুধশিল্পের অগ্রগতির সুফল রোগীদের কাছেও পৌঁছাতে হবে। পরীক্ষার খরচও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে। স্টেন্টের (রিং) দাম সাম্প্রতিক সময়ে কমানো হয়েছে—এটি ইতিবাচক। এ সুবিধা একাধিক সরকারি হাসপাতালে থাকতে হবে। বড় সরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা রেখে বিনা মূল্যে বা ভর্তুকিতে স্টেন্ট ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যবিমাও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের দেশে অনেক পরিবার চিকিৎসা শুরুর আগেই খরচের চিন্তায় পড়ে যায়।

বাংলাদেশে হৃদরোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোথায়—সচেতনতার অভাব, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা, জীবনযাপন নাকি নীতিগত ঘাটতি?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: এখানে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে। সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হৃদযন্ত্র মৃত্যু পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তাই ছোটবেলা থেকেই খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলায় জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার ঘাটতি দূর করতে হবে। রোগীর জীবন রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইসিজি এবং থ্রম্বোলাইটিক (রক্ত জমাট গলানোর বিভিন্ন ওষুধ) চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। নার্স, টেকনোলজিস্ট, প্যারামেডিকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সিপিআর-এর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহনও শক্তিশালী করতে হবে। চিকিৎসা ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে জেলা-উপজেলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সচেতনতা, জীবনযাপন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি অবকাঠামো ও নীতিগত উদ্যোগ—সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার মানোন্নয়নে আগামী কয়েক বছরে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চায়?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি একটি পেশাজীবী সংগঠন। আমাদের দায়িত্ব রোগীরা যথাযথ ও মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, সেটিও দেখা। চিকিৎসকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান বাড়াতে হবে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রকৃত শিক্ষা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, শুধু সার্টিফিকেট নয়। উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে; বিদেশি প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময়ও দরকার। চিকিৎসা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বড় ঘাটতির একটি হলো নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য। দেশে কত রোগী, কোন এলাকায় কত রোগী, কী ধরনের রোগ বেশি এবং কোথায় চিকিৎসা-সুবিধা আছে—এসব নিয়ে জাতীয় রেজিস্ট্রি দরকার। গবেষণার ক্ষেত্রেও জোর দিতে হবে। খাদ্যাভ্যাস ও আর্থসামাজিক বাস্তবতায় ইউরোপ বা আমেরিকার গাইডলাইন সব সময় আমাদের জন্য উপযোগী নয়। তাই বাংলাদেশি রোগীদের ওপর গবেষণা করে স্থানীয় নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যবিমার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষের জন্য আপনার বার্তা কী? একজন সুস্থ মানুষ আজ থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কী কী অভ্যাস শুরু করতে পারেন?
ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন: আমার বার্তা—হৃদরোগ প্রতিরোধে আজ থেকেই সচেতন হতে হবে। কী এবং কতটা খাচ্ছেন, দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসব-অনুষ্ঠানের ব্যতিক্রমী খাওয়াকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না। জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে দৈনিক খাদ্যতালিকায় বেশি করে ফলমূল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি রাখতে হবে। ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জনের পাশাপাশি অন্যের ধোঁয়া অর্থাৎ ‘প্যাসিভ স্মোকিং’ থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় বসে না থেকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সম্ভব হলে এক থেকে তিন তলা পর্যন্ত লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট, অন্তত সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। রাতে শরীর, মস্তিষ্ক ও কোষ পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়। রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সবশেষে বলব, হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।